Showing posts with label Poem. Show all posts
Showing posts with label Poem. Show all posts

Thursday, 27 October 2011

বাচার লড়াই


বাচার লড়াই
আবিদ রাজা মজুমদার

কেনে অত নীরব তুমি! কিচ্চু কেনে মাত না?
কোন কারণে হতাশরে ভাই, নাই কেনে বোধ চেতনা!
কওনা কথা, মনের ব্যাথা রাখ কেনে ছাপাইয়া
সামনে আইয়া বুক ফুলাইয়া আওনা খাড়া ডাটাইয়া।
আওড়ে তনে চাও কেনে ভাই, মাত কেনে কুচাইয়া
কইবার ডরে মড্ডায় কেনে, থাক কেনে পিছাইয়া!


লাগাও জোরে হায়দরি হাক
একবার গলা ঝাড়িয়া
গুর্কি উঠি পষ্ট কথায়
দেওনা পিলই কাপাইয়া।
পাওনা পাতি, লনা বুঝি
পরোয়া কর কারে?
আওয়াজ তুল, আদায় কর
হিম্মত সহকারে।


বুক ভরা তোর সাহস আছে, মুখে ত নায় কমিনা,
আকল বুদ্ধি সবউ আছে, কমজোরি খান বুঝিনা।
শক্ত আতে শক্ত মাতে, শক্ত কামড় লাগাও চাই!
ইমান রাখি, কট্ট থাকি, জোর কদমে চল চাই!


কে আছে তোর সামনে দাঁড়ায়
কোন বাধা তর রোশ আটকায়?
কদম কদম আগ বাড়ি যা
হাজার বাধা কিচ্চু নায়।
বাচতে যদি চাচ টিকে ভাই
বাচার লাগি লাড়াই কর।
কান্ধে কান্ধে আঞ্জা করি
আত বাড়াইয়া আত ধর।
নিভাগি নাম লাগাইছ না রে
নিওড়া খান অইছ না;
সাচ্চা সাহস রাখিছ দিল
মনরে ছোট করিছ না।
অয়না কিচ্চু আপনাতনে
মুফতে শান বাড়ে না;
লড়িয়া নিবার কদর আছে
মুরাদর দাম কমে না।
পরর উপর গরা দিয়া
স্বপ্নে সময় গয়াইছ না
তাক্কত আছে খরছ কর
লেউংড় ধরি বাচিছ না।

(কবি আবিদ রাজা মজুমদার কাছাড় জেলার (আসাম) পয়লাপুলস্থিত নেহরু কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। কবিতাটি শান্তির সোপান-র ২০০৩ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবির ব্যাবহ্রূত বানান যথাসম্ভব অপরিবরতিত রাখা হয়েছে।)

আটাশ অক্টোবর আমার জন্মদিন নয়

জন্মযন্ত্রণা

ওয়ালিউল্লাহ আহমদ লস্কর

আটাশ অক্টোবর আমার জন্মদিন নয়
যদিও সেই দিনেই জন্মযন্ত্রণার শুরু হয়।
জঠর থেকে জঠরে,
                  আঁধার থেকে আঁধারে
বুকে হেটে যাওয়ার নাম,
                  গোলক ধাঁধায় ঘোরপাক খাওয়ার নাম
জন্মযন্ত্রণা।



পিছনে গলিত কবন্ধের পাহাড়
দিগন্ত বিস্তৃত  মুমূর্ষু হাহাকার,
ডান প্রান্তরে জ্বলছে স্বসৃষ্ট নরক
ফট ফট ফাটছে সেরা মানব মস্তক,
বামদিকে ভয়ানক মৃত্যুর আয়োজন
দেখে মরণ কাঁপছে প্রলয় কাঁপন
মাথার উপর উড়ন্ত পায়রার দল
উড়ে ঊড়ে হয়ে যায় মানুষ মারার কল,
পায়ের তলয়ার প্রান্তর পূর্ণ কিলবিল শ্বাপদে
জঠরের ভিতর টইটুম্বুর লৌকিক অ-লৌকিক আপদে,
এর চাপে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জঠর পথে
মুখ রেখে দৃষ্টি মেলে দিই সাম্নের দিগন্তে,
রক্ত আঠালো-পিচ্ছিল গন্ধ ভেসে আসে নাকে
জরায়ুমুখে অন্ধকার ওত পাতে বাঁকে বাঁকে।



-- হঠাৎ চখের চমক
এক ফোঁটা তরল আলো মিটি মিটি জ্বলছে
জ্বলছে আর নিভছেহাতছানি দিচ্ছে।
একি মরীচিকা, নাকি আলেয়া?
নাকি ও-ই আমার জীবন প্রিয়া?
প্রেমের অনুভবে গাঢ় থেকে গাঢ়তর জন্মযন্ত্রণা,
জীবনের টানে বাড়ছে অসহ্য জীবন-বিরহ-বেদনা।
জঠরের দেওয়ালে চোখ বুজে মাথা খুঁড়ছি,
বুক ঘসটে ঘসটে জরায়ুর মুখ খুঁজছি।

আটাশ অক্টোবর আমার জন্মদিন নয়,
যদিও জন্মযন্ত্রণার শুরু সেইদিনেই হয়।
জবন মানে যন্ত্রণা? নাকি প্রেম, আলো আর শান্তি?
ওগো জনম-প্রিয়া, ঘোচাও আমার জবন-ভ্রান্তি!